August 9, 2026, 9:33 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের চেরাংঘোনায় জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে রক্তপাত ও সংঘাতের আশংকা দেখা দিয়েছে। পূর্বের দখলীয় পক্ষকে হটিয়ে দিয়ে জমিতে বেড়ে গেছে অনুপ্রবেশ। এতে করে উপজেলার উপকুলবর্তী মগনামা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রান্ত চেরাংঘোনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। বিএস রেকর্ডীয় মালিক জমি বিক্রি করে হয়ে গেছেন নি:স্বত্তবান। তবে বর্তমান দিয়ারা রেকর্ড নি:স্বত্তবান ব্যক্তিদের নামে জমি রেকর্ডভূক্ত হয়। এতে করে দলিল গ্রহীতা ও খতিয়ানে সাংঘর্ষিকতা দেখা দিয়েছে। জমির দলিল ও রেকর্ড নিয়ে এখন চেরাংঘোনায় হানাহানি ও সংঘাতের মত পরিস্থিতি মোড় নিচ্ছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, চেরাংঘোনায় বিএস ২৩২ ও ২৩৩ রেকর্ডীয় খতিয়ানের মালিক চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার পশ্চিমগুজরার আবুল খায়ের, আবুল বশর ও আবদুল হাদিসহ ৩ ভাই। পৈত্রিক অংশ থেকে ৩ ভাই পৃথক ২টি খতিয়ানে জমি প্রাপ্ত হন ৭৪ কানি। সেই হিসেবে প্রতিভাই জমি প্রাপ্ত হন ২৪ কানি ১৩ শতক করে। আবুল বশর ও আবদুল হাদির ওয়ারিশগন বিএস মূলে পিতার প্রাপ্ত অংশ বিক্রি করেন। বিভিন্ন জনকে বিক্রি করে তারা বিএস রেকর্ডের সময় নি:স্বত্তবান হয়ে যান। এদের মধ্যে আবুল বশরের ওয়ারিশ আবুল কালাম ও এমদাদ হোসেন গং পৈত্রিক অংশের প্রাপ্তির চেয়ে আরও অধিক জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। একইভাবে আবদুল হাদির ওয়ারিশ মো: ইসহাক ও হারুনুর রশিদ গংও অধিক সম্পত্তি প্রাপ্তির চেয়ে বেশী বিক্রি করে দিয়েছে। বড় ভাই আবুল খায়েরের প্রাপ্ত অংশের চেয়ে তার ওয়ারিশরা কিছু জমি কম বিক্রি করে। দিয়ারা রেকর্ডে বড় ভাই আবুল খায়েরের ওয়ারিশগনের নামে জমি রেকর্ড হয়নি। এক ভাইয়ের নামে দিয়ারার রেকর্ড না হওয়ায় ওই জমি ছোট ভাইয়ের নামে দিয়ারায় ভূল রেকর্ড হয়। সুত্র জানিয়েছেন, বিএস রেকর্ডীয় মালিক ৩ ভাইয়ের জমি বিভিন্ন জন খরিদ করেন। এ সব জমি তারা ভোগ দখলে রেখে সন সন লবণ ও ফসলাদি উৎপাদন করছিলেন। দিয়ারা খতিয়ানে ভূলে রেকর্ড হওয়ায় দলিলের মালিকরা এখন অনেকটাই বেকায়দায়। দলিল গ্রহীতা চেরাংঘোনার কবির আহমদের ছেলে আলমগীর জানান, আমি ৩ ভাইয়ের অংশ থেকে জমি কিনেছি। আবুল খায়েরের ওয়ারিশ নুরুল আমিন গং পিতার প্রাপ্ত অংশ থেকে কিছু সম্পত্তি বিক্রি করেছে। এখনও তাদের জমি অবিক্রিত রয়েছে। অপরদিকে আবুল বশর ও আবদুল হাদির রেকর্ড দিয়ারায় প্রাপ্ত অংশের চেয়ে বেশী হয়েছে। এখন তথ্য গোপন করে এ ২ জনের ওয়ারিশগন আবারও জমি বিক্রির পাঁয়তারা করছে। আমি জমি বিক্রি ঠেকাতে আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছি। ইসহাক গং ও আবুল কালাম গং জমি আগে বিক্রি করেছেন সেটি উপস্থাপন করেছি। পেকুয়া সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আদালতে যাব আমরা। না হলে এখানে জমি নিয়ে মারামারি ও সংঘাত অনিবার্য। এর আগে ভূয়া দলিল নিয়ে একটি প্রতারকচক্র এলাকায় শান্তি শৃংখলা বিনষ্ট করেছে। আসলে আমরা হয়রানি ও অবিচারের শিকার হচ্ছি। এ সব থেকে উত্তরণ চাই। প্রতারক চক্র জমি নিয়ে শুধু মারপিট ও সংঘাত লাগিয়ে দিচ্ছে।